২৮ ও ২৯ জুলাই ২০২৬ সালে ইরাকের অভ্যন্তরে যৌথভাবে বড় ধরনের সামরিক ও বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরব। ইরাকের পূর্বাঞ্চলীয় বিভিন্ন এলাকার লজিস্টিকস ও অস্ত্র আস্তানা লক্ষ্য করে এই প্রেসিজন বা নিখুঁত বিমান হামলা চালানো হয়। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের তেল ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ড্রোন হামলার জবাবে এই পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো।
হামলার সময়কাল ও বিবরণ
সময় ও তারিখ: গত ২৮ জুলাই ২০২৬ (মঙ্গলবার) রাতে শুরু হয়ে এই অভিযান ২৯ জুলাই পর্যন্ত কার্যকর ছিল।
ব্যবহৃত সরঞ্জাম: যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম (CENTCOM) এবং সৌদি আরব যৌথ এই অভিযানে আধুনিক যুদ্ধবিমান (Fighter Aircraft) ব্যবহার করে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে সুনির্দিষ্ট বোমা বর্ষণ করে।
হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ
ইরাকের পপুলার মবিলাইজেশন ফোর্সেস (PMF বা হাশদ আল-শাবি) জানিয়েছে যে, এই যৌথ হামলায় তাদের সদর দপ্তর ও বিভিন্ন ঘাটিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলায় তাদের অন্তত ৮ জন সদস্য নিহত এবং ৪ জন আহত হয়েছেন। এছাড়াও বেশ কিছু ভবন ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়া ও অবস্থান
[Ad Placement - Middle of Article]
যুক্তরাষ্ট্র (সেন্টকম): মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC)-এর নির্দেশেই ইরানপন্থী মিলিশিয়ারা মার্কিন বাহিনী ও সৌদি জ্বালানি অবকাঠামোতে একের পর এক ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছিল। গত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ৩০টির বেশি ড্রোন হামলা প্রতিহত করার পর এই আত্মরক্ষামূলক ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, এই ধরনের হামলা বন্ধ না হলে আরও কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সৌদি আরব: সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ও রিয়াদ অঞ্চলের পেট্রোলিয়াম স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরাকি ভূখণ্ড থেকে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল। জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে মার্কিন বাহিনীর সাথে সমন্বয় করেই এই সুনির্দিষ্ট অভিযান চালানো হয়েছে। রিয়াদ স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে তারা নতুন করে কোনো আঞ্চলিক সংঘাত চায় না, তবে নিজেদের সীমান্তে কোনো ধরনের আগ্রাসন সহ্য করা হবে না।
ইরাক সরকার ও মিলিশিয়া গোষ্ঠী: ইরাকি সশস্ত্র বাহিনী এই যৌথ হামলাকে দেশের সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। এদিকে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-যায়দির নির্ধারিত সৌদি আরব সফর এই ঘটনার পর চরম অনিশ্চয়তা ও জটিলতার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, ইরাকের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ছাতা সংগঠন 'ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক' তাদের ওপর আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে একে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে এবং যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যৌথ হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে বড় ধরনের উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও তেলের মূল্যের ওপর পড়তে শুরু করেছে।