International Digital Edition
[Ad Placement - Top Header Banner]
আন্তর্জাতিক

‘আমরা এখন আঞ্চলিক শীর্ষ শক্তি, বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোরও প্রতিদ্বন্দ্বী’: ইরান

11 Sep, 2026 | 09:24 AM
News Image
[Ad Placement - After Title/Image]
মধ্যপ্রাচ্যের ভৌগোলিক ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে নিজেদের অবস্থান নিয়ে এক বড় দাবি করেছে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরান এখন আর কেবল মধ্যপ্রাচ্যের একটি সাধারণ রাষ্ট্র নয়, বরং আঞ্চলিকভাবে শীর্ষ শক্তি এবং সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে বিশ্বমঞ্চের বড় বড় পরাশক্তিগুলোর শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে।
​সম্প্রতি ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও নীতি-নির্ধারকদের বক্তব্যে এই আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা গেছে। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক চাপ এবং দীর্ঘদিনের পশ্চিমা অবরোধকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজেদের প্রযুক্তি ও সামরিক সক্ষমতা এমন জায়গায় নিয়ে গেছে দেশটি, যা এখন বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর জন্য চিন্তার কারণ।
​সামরিক প্রযুক্তিতে বড় পরিবর্তন
ইরানের সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোন, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণ বদলে দিয়েছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতায় ইরানি ড্রোনের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে যে, প্রতিরক্ষায় তেহরানের স্বাবলম্বিতা এখন আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে।
​প্রক্সি নেটওয়ার্ক ও আঞ্চলিক প্রভাব
কেবল সামরিক সরঞ্জাম নয়, লেবানন, ইয়েমেন, ইরাক ও সিরিয়ায় নিজেদের অক্ষকে বা ‘রেজিস্ট্যান্স অ্যাক্সিস’কে শক্তিশালী করে ইরান পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নিজস্ব এক প্রতিরক্ষামূলক দেয়াল গড়ে তুলেছে। ফলে যেকোনো আঞ্চলিক পরাশক্তি বা বৈশ্বিক শক্তি মধ্যপ্রাচ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তেহরানের অবস্থান বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছে।
[Ad Placement - Middle of Article]
​পশ্চিমা বিশ্ব ও ইসরায়েলের উদ্বেগ
ইরানের এমন প্রকাশ্য দাবি এবং ক্রমবর্ধমান প্রভাবে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ইসরায়েল। পশ্চিমা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই স্বঘোষিত ‘শীর্ষ শক্তি’র তকমা মূলত ওয়াশিংটনকে এই বার্তা দেওয়া যে—চাপ সৃষ্টি করে তেহরানকে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধ্য করা যাবে না।
​আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, অর্থনৈতিকভাবে ইরান বড় ধরনের চাপের মুখে থাকলেও কৌশলগত ও সামরিক দিক থেকে দেশটি এখন এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখানে তাদেরকে বাদ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো স্থায়ী নিরাপত্তা চুক্তি বা শান্তি আলোচনা করা অসম্ভব।
​ইরানের এই নতুন রণকৌশল এবং পরাশক্তি হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্য তথা বিশ্ব রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
প্রচ্ছদে ফিরে যান